কোপেনহেগেন, ২৭ জুন ২০২৬: ডেনমার্কে চলতি সপ্তাহের তাপপ্রবাহ জুন মাসের ৭৯ বছরের পুরোনো তাপমাত্রার রেকর্ড ভেঙে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ডেনিশ মেটিওরোলজিক্যাল ইনস্টিটিউট—DMI জানিয়েছে, শনিবার দেশের অনেক স্থানে তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে উঠতে পারে এবং স্থানীয়ভাবে প্রায় ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। ডেনমার্কে জুন মাসে সর্বোচ্চ তাপমাত্রার বর্তমান রেকর্ড ৩৫.৫°C, যা ১৯৪৭ সালের ২৯ জুন Hillerød–এ মাপা হয়েছিল। DMI–র ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার দুপুর থেকে রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত তাপপ্রবাহের সতর্কতা কার্যকর রয়েছে। ডেনমার্কে তাপপ্রবাহ বা hedebølge বলা হয় তখন, যখন টানা তিন দিন দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার গড় ২৮°C–এর বেশি হয়। সংস্থাটি বলছে, চলতি সপ্তাহান্তে সেই শর্ত পূরণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। DMI তাপপ্রবাহের সতর্কতাকে ‘Kategori 2: Farligt vejr’ বা বিপজ্জনক আবহাওয়ার পর্যায়ে উন্নীত করেছে। এই পর্যায়ের সতর্কতার অর্থ হলো—আবহাওয়া মানুষের দৈনন্দিন জীবন, বাইরে চলাচল, ট্রাফিক এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলতে পারে; তাই নাগরিকদের কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ ও বাইরে চলাচলে বাড়তি সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শনিবার সবচেয়ে বেশি গরম পড়তে পারে পশ্চিম জিল্যান্ড অথবা Djursland এলাকায়। দক্ষিণ ও পশ্চিম দিক থেকে বাতাস বইলে কিছু উপকূলীয় এলাকায় তাপমাত্রা তুলনামূলক কম থাকতে পারে। ডেনমার্কের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ Sundhedsstyrelsen জানিয়েছে, অতিরিক্ত গরমের কারণে অস্বস্তি, পানিশূন্যতা এবং গুরুতর ক্ষেত্রে হিটস্ট্রোক হতে পারে। বিশেষ করে বয়স্ক মানুষ, শিশু, ছোট শিশু এবং শারীরিকভাবে দুর্বল ব্যক্তিরা বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের পরামর্শ হলো—রোদ এড়িয়ে ছায়ায় থাকা, বাইরে গেলে টুপি ও ঢিলেঢালা হালকা রঙের পোশাক পরা, পর্যাপ্ত পানি পান করা, তৃষ্ণা না লাগলেও নিয়মিত পানি খাওয়া এবং অতিরিক্ত অ্যালকোহল এড়িয়ে চলা। ঘামে শরীর থেকে লবণ বেরিয়ে গেলে লবণযুক্ত খাবার বা পানীয় গ্রহণ করাও উপকারী হতে পারে। দুপুর ১২টা থেকে ৩টার মধ্যে সূর্যের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি থাকে। এই সময় সরাসরি রোদে না থাকার পরামর্শ দিয়েছে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি বাইরে গেলে সানহ্যাট, সানগ্লাস, ঢিলেঢালা পোশাক এবং কমপক্ষে SPF 30 সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। তীব্র গরম ও শুকনো আবহাওয়ায় খোলা জায়গায় আগুন লাগার ঝুঁকিও বাড়ে। ডেনমার্কের Beredskabsstyrelsen বা জরুরি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের স্থানীয় অগ্নিনিষেধাজ্ঞা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। কোনো এলাকায় afbrændingsforbud বা আগুন জ্বালানোর নিষেধাজ্ঞা জারি হলে তা স্থানীয় পৌরসভার পরিস্থিতি বিবেচনায় কার্যকর করা হয়। প্রাকৃতিক এলাকায় আগুন প্রতিরোধে কর্তৃপক্ষের পরামর্শ হলো—শুধু নির্ধারিত স্থানে আগুন বা গ্রিল ব্যবহার করা, শুকনো ঘাস ও গাছপালা থেকে দূরে থাকা, আগুন বা গ্রিল পুরোপুরি নিভে যাওয়ার আগে স্থান ত্যাগ না করা, খোলা আগুন ব্যবহার করলে কাছে পানি রাখা, শুকনো গাছপালার ওপর গাড়ি পার্ক না করা এবং দুর্ঘটনা ঘটলে সঙ্গে সঙ্গে ১-১-২ নম্বরে ফোন করা। রাতে তাপ কমলেও স্বস্তি পুরোপুরি নাও মিলতে পারে আবহাওয়াবিদরা বলছেন, শুধু দিনের তাপমাত্রাই নয়, রাতের গরমও মানুষের শরীরের ওপর চাপ বাড়াতে পারে। অনেক এলাকায় রাতের তাপমাত্রা ২০°C–এর ওপরে থাকতে পারে, যাকে tropic night বলা হয়। এমন রাতে ঘর ঠান্ডা না হলে ঘুমের সমস্যা, ক্লান্তি ও পানিশূন্যতার ঝুঁকি বাড়ে। রোববারের পর তাপমাত্রা কমার সম্ভাবনা DMI জানিয়েছে, শনিবার স্থানীয়ভাবে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে শনিবার রাত থেকে রোববারের দিকে অনেক এলাকায় বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, কোথাও কোথাও তা শক্তিশালী দমকা হাওয়ার সঙ্গে হতে পারে। আগামী সপ্তাহে তাপমাত্রা আবার প্রায় ২০°C–এর কাছাকাছি নেমে আসতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ডেনমার্কের এই তাপপ্রবাহ এমন সময়ে দেখা দিয়েছে, যখন ইউরোপের বড় অংশ অস্বাভাবিক গরমে ভুগছে। DMI–র মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ভবিষ্যতে ইউরোপে তাপপ্রবাহ আরও তীব্র ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। সংস্থাটি বলছে, হিটওয়েভ মানুষের স্বাস্থ্য, বড় জনসমাগম, উৎসব, পরিবহন ও জরুরি সেবার ওপর চাপ তৈরি করতে পারে। সব মিলিয়ে আবহাওয়া দপ্তর ও স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের বার্তা স্পষ্ট—এই গরমকে সাধারণ গ্রীষ্মের আবহাওয়া ভেবে অবহেলা করা যাবে না। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক, অসুস্থ ব্যক্তি এবং বাইরে কাজ করা মানুষদের জন্য আগামী কয়েক দিন বাড়তি সতর্কতা জরুরি। তথ্যসূত্র DMI, Sundhedsstyrelsen এবং Beredskabsstyrelsen–এর সর্বশেষ আবহাওয়া, স্বাস্থ্য ও অগ্নিসতর্কতা সংক্রান্ত তথ্য।