গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে একের পর এক বিশাল মূর্তি নির্মাণকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং এলাকাবাসীর মধ্যে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা তৈরি হয়েছে। ২৮ ফুট উচ্চতার শিবমূর্তি এবং ৫৩ ফুটের কৃষ্ণমূর্তির পর এবার নির্মাণাধীন রামমূর্তি নিয়ে নতুন করে শুরু হয়েছে বিতর্ক। স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে গত ১১ জুন নির্মাণকাজ সাময়িকভাবে বন্ধ করা হলেও প্রকল্পটির অর্থায়ন, উদ্দেশ্য ও এর পেছনের ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, সংখ্যালঘু অধ্যুষিত নয় এমন একটি এলাকায় ধারাবাহিকভাবে বিশালাকৃতির মূর্তি নির্মাণের পেছনে বিশেষ কোনো পরিকল্পনা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। মন্দির প্রাঙ্গণে বিদেশি কূটনীতিকদের যাতায়াত এবং প্রশাসনের অনুমোদন ছাড়াই বৃহৎ পরিসরে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগও সামনে এসেছে। এই প্রকল্পের সঙ্গে জড়িত হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন হরিদাস চন্দ্র তরণী। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সূত্রের ভাষ্যমতে, অতীতে তিনি প্রতারণাসহ বিভিন্ন অভিযোগে আলোচিত ছিলেন। এছাড়া গণভবনে এসি মেরামতের কাজের সূত্রে ক্ষমতাকেন্দ্রের সঙ্গে তার যোগাযোগ তৈরি হয়েছিল বলেও বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে। যদিও শেখ রেহানার সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেছেন। তবে শেখ সেলিমের সঙ্গে ব্যবসায়িক লেনদেন ও পরবর্তী বিরোধের বিষয়টি তিনি স্বীকার করেছেন। গোয়েন্দা ও প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, হরিদাসের অর্থের উৎস এবং বিদেশি সংশ্লিষ্টতার বিষয়গুলো নিয়ে অনুসন্ধান চলছে। তিনি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ব্যবসার মাধ্যমে বিপুল অর্থ উপার্জনের দাবি করলেও এ-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্র দেখাতে পারেননি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। পলাশবাড়ীর শ্রীশ্রী রাধাগোবিন্দ ও কালীমন্দিরকে ঘিরে গড়ে ওঠা বিশাল কমপ্লেক্স এবং সেখানে ১৪৪টি মূর্তি নির্মাণের পরিকল্পনাও প্রশাসনের নজরে এসেছে। স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মতে, এ ধরনের বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারি অনুমোদন ও অর্থায়নের উৎস সম্পর্কে স্বচ্ছতা থাকা জরুরি। গত ৯ জুন রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। পরবর্তীতে ১১ জুন গাইবান্ধায় অনুষ্ঠিত অংশীজনদের সভায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরীফ আল রাজীব জানান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়ে মতামত দেওয়া হয়। প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে প্রকল্পটির অর্থায়ন, অনুমোদন ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কর্মকাণ্ড নিয়ে সতর্ক পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদঘাটনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে। তবে হরিদাস চন্দ্র তরণী তার বিরুদ্ধে ওঠা অধিকাংশ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং দাবি করেছেন, তার কর্মকাণ্ডের উদ্দেশ্য সম্পূর্ণ ধর্মীয় ও মানবকল্যাণমূলক।