বঙ্গোপসাগরে ভারতের বিমানবাহী রণতরীর একক নৌ-আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পাকিস্তান বঙ্গোপসাগরে তাদের সবচেয়ে আধুনিক ‘হাঙ্গর-ক্লাস’ সাবমেরিন মোতায়েন করতে যাচ্ছে! ১৯৭১ সালের পর এই প্রথম বঙ্গোপসাগরে স্থায়ীভাবে নৌ-উপস্থিতি প্রতিষ্ঠার এক বড় কৌশলগত পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে পাকিস্তান। ভারতের একচেটিয়া প্রভাব বলয় ও তাদের বিলিয়ন ডলারের বিমানবাহী রণতরীগুলোর দাপট রুখে দিতে পাকিস্তান এই অঞ্চলে মোতায়েন করতে যাচ্ছে তাদের সবচেয়ে আধুনিক এবং ঘাতক ‘হাঙ্গর-ক্লাস’ সাবমেরিন! শ্রীলঙ্কার কলম্বো বন্দরে অবস্থানকালে পাকিস্তান নৌবাহিনীর একটি টাস্ক গ্রুপের মিশন কমান্ডার এবং ১৮তম ডেস্ট্রয়ার স্কোয়াড্রনের প্রধান কমোডর ওমর ফারুক একটি অনুষ্ঠানে সরাসরি এই বড় ঘোষণা দিয়েছেন। এই সাবমেরিনে AIP প্রযুক্তি থাকায় একাধারে ১ মাস পর্যন্ত সময় পানির নিচে থাকতে পারে এবং পরবর্তীতে আরও ১ মাস একটানা ৬৫ দিনের মিশন পরিচালনা করতে পারে। হাঙ্গর-ক্লাস সাবমেরিনে চীনের সবচেয়ে আধুনিক Yu-6 ভারী টর্পেডো ব্যবহার করা হচ্ছে। যা একটি "ক্যারিয়ার কিলার" অস্ত্র। এর ভেতরে থাকা বিশাল পরিমাণ বিস্ফোরক একটিমাত্র আঘাতেই বিমানবাহী রণতরীর মূল কাঠামো বা মেরুদণ্ড ভেঙে সেটিকে ডুবিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। এছাড়াও এতে বাবর ক্রুজ মিসাইল থাকায় ৪৫০ কিলোমিটার দূর থেকে রণতরীর রানওয়ে অচল করা সম্ভব। ১৯৭১ সালে এই নামের সাবমেরিন ভারতীয় সাবমেরিন বিধ্বংসী জাহাজকে ধ্বংস করেছিল। পাকিস্তানের সাবমেরিন আতঙ্কে ভারতের বিমানবাহী রণতরী আন্দামান সাগরে গিয়ে লুকিয়ে থাকতে হয়েছিল। এখন আবার একই নামের সাবমেরিন ত্রাস সৃষ্টি করতে বঙ্গোপসাগরে আসছে। মোট ৮টি এই ক্লাসের সাবমেরিন এর মধ্যে প্রথম ৪ টি চীন সরাসরি তৈরি করছে এবং বাকিগুলো করাচিতে প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে নির্মিত হবে। যা মুল্য ধরা হয়েছে ৫ বিলিয়ন ডলার। এদিকে আমাদের আছে দুইটি ভাঙারি মিন ক্লাস সাবমেরিন । যেটাকে দেখলে হয়তো শত্রুরা লজ্জা পায়। বিলিয়ন ডলারে সাবমেরিন ঘাঁটি করা হয়েছে, অথচ সাবমেরিনের খবর নেই। পাকিস্তানের চেয়ে বড় ৫০০ বিলিয়ন ডলার জিডিপি থাকার পরেও ৩.৫ বিলিয়ন সামরিক বাজেট দেওয়া হয়েছে। যেখানে এ বছর ভারত সামরিক বাজেট ১২ বিলিয়ন ডলার বাড়িয়ে ৮৬ বিলিয়ন করেছে। পাকিস্তানে ১.৬ বিলিয়ন বেড়ে ১০.৮ বিলিয়ন। আর আমাদের ১৫৫ মিলিয়ন বেড়ে ৩.৫ বিলিয়ন। এতেই দেশের সংবাদমাধ্যম এমনভাবে প্রচার করছে যেন সামরিক বাজেটের বিরাট উন্নতি হয়ে গেছে।