অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে শাশুড়ির শত কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে বগুড়া নন্দীগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন রানার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রভাবশালী এই আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী দেলওয়ারা বেগমের চার মেয়ে। অভিযোগকারীরা হলেন- মাহবুবা খানম আমেনা, নাদিরা শরিফা সুলতানা খানম, কানিজ ফাতেমা পুতুল ও তৌহিদা শরিফা সুলতানা। বিষয়টি নিশ্চিত করে বগুড়ার উপ-পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান জানান, ইতোমধ্যে অভিযোগের অনুলিপি দুদকের বগুড়া সমন্বিত কার্যালয়েও দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, রবিবার (৬ জানুয়ারি) এ ব্যাপারে আরও বিস্তারিত জানা যাবে। তবে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা রানা তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, এসবই তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। অভিযোগপত্র থেকে জানা গেছে, ভুক্তভোগী দেলওয়ারা বেগমের বড় মেয়ের স্বামী সাইফুল ইসলামের “দৈনিক দূর্জয় বাংলা” সংবাদপত্রের বিজ্ঞাপন শাখায় দেড় হাজার টাকা বেতনে কাজ করতেন অভিযুক্ত রানা। ২০০৬ সালে সাইফুল ইসলামের মৃত্যুর পর তার স্ত্রী আকিলা শরিফা সুলতানা খানম আঞ্জুয়ারার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন তিনি। পরে, ২০০৯ সালে আঞ্জুয়ারার পরিবারের অসম্মতিতে পালিয়ে বিয়ে করেন তারা। বিয়ের পর শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলেন রানা। সেই সূত্রে শ্বশুর শিল্পপতি শেখ শরিফ উদ্দিন এবং শাশুড়ি দেলওয়ারা বেগমের পারিবারিক সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তত্ত্বাবধান ও পরিচালনার দায়িত্ব পান অভিযুক্ত রানা। ভুক্তভোগী দেলোওয়ারা বেগমের মেয়েদের অভিযোগ, স্ত্রী আঞ্জুয়ারার সঙ্গে মিলে রানা ভয়ভীতি দেখিয়ে দেলোওয়ারার কাছ থেকে জোর করে স্ট্যাম্প, ব্যাংকের চেক, এফডিআর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্র নিয়ে নেন। পরে, ব্যাংকের টাকাসহ এফডিআর ভেঙে এবং শত কোটি টাকা তুলে আত্মসাৎ করেন তিনি। লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, আওয়ামী লীগ নেতা আনোয়ার হোসেন রানার নামে ও বেনামে অনেক জমি রয়েছে। এছাড়া তিনি অত্যাধুনিক বাড়িতে থাকেন, বিলাসবহুল গাড়ি ব্যবহার করেন। তার বিরুদ্ধে অংশীদারদের প্রতারণা করে সম্পদ অর্জন এবং জ্ঞাত আয় বহির্ভূত আরও শত কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগও রয়েছে। এ সব সম্পদ ও সম্পত্তির মধ্য রয়েছে- শ্বশুর শেখ শরিফ উদ্দিনের বগুড়ার শাকপালা মৌজার ২০ শতক জমি, সূত্রাপুর মৌজার ৯৮ শতক এবং ঢাকার মোহাম্মদপুরে এক হাজার ৪০০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট এবং শাশুড়ি দেলওয়ারা বেগমের বিভিন্ন ব্যাংকে সংরক্ষিত এফডিআর ও গচ্ছিত প্রায় শত কোটি টাকা। এছাড়াও, আওয়ামী লীগ নেতা আনোয়ার হোসেন রানার শাকপালায় এসআর প্রিন্টিং প্রেস এবং শরীফা প্রিন্টিং প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশন নামে দুটি স্বয়ংক্রিয় ছাপাখানা রয়েছে। এ দুটি ছাপাখানায় অবৈধভাবে সিগারেটের ব্র্যান্ডরোল ছাপানো হয়। এভাবে, শরিফ বিড়ির অবৈধ রোল ছাপিয়ে অন্তত ২৫ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছেন তিনি। বিপুল অংকের সম্পদ ও সম্পত্তি হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে দেলওয়ারা বেগম গত বছরের ৫ অক্টোবর মেয়ে আঞ্জুয়ারা ও জামাই রানার বিরুদ্ধে সদর থানায় একটি মামলাও করেছেন। সেই মামলায় সস্ত্রীক গ্রেপ্তারও হন রানা। পরবর্তীতে, উচ্চ আদালতে জামিন আবেদনে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে ধরাও পড়েন তারা। বর্তমানে তারা ওই মামলায় জামিনে রয়েছেন।