জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থগিত পরীক্ষা চালুর দাবিতে মাদারীপুরে মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করেছেন মাদারীপুর সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা। এ সময় রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সাদিয়া সাদি বলেন, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দুই সপ্তাহের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই দুই সপ্তাহ দুই বছরে রূপ নিবে। এমনভাবে শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে। করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধির মধ্যে সব চললে পরীক্ষাও চলতে দিতে হবে। দাবি মোদের একটাই, পরীক্ষা চাই।’ আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে ব্যানার-ফেস্টুন হাতে কলেজের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শ্রেণির কয়েক শ শিক্ষার্থী এ কর্মসূচিতে অংশ নেন। এ সময় শেখ হাসিনা মহাসড়কের একটি অংশ কিছুক্ষণ অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। পরে জেলা প্রশাসক রহিমা খাতুনের মাধ্যমে শিক্ষামন্ত্রী বরাবর এক স্মারকলিপি দেন তাঁরা। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, করোনার কারণে প্রায় ২০ মাস সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। এতে শিক্ষা কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, শিক্ষার্থীরা হতাশ। এমন অনেক শিক্ষার্থী আছেন, যাঁদের দুই বছর আগে পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল কিন্তু তাঁরা এখনো পরীক্ষা দিতে পারছেন না। এদিকে সরকারি চাকরির বয়সসীমাও চলে যাচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে যখন আশার সঞ্চার হয়েছিল, তখন আবার বন্ধের ঘোষণায় সবাই উদ্বিগ্ন। বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মিঠুন বিশ্বাস বলেন, ‘এক দেশে দুই নীতি চলবে না, চলবে না। আমাদের দাবি একটাই, পরীক্ষা চাই, পরীক্ষা চাই। স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরীক্ষা চাই। শিক্ষা নিয়ে বাণিজ্য আর চলবে না।’ অফিস, মেলাসহ সবকিছু চললেও কেবল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ কেন—এমন প্রশ্ন তুলে অনন্যা অনু নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘শিক্ষামন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে আমরা জানতে চাই যে করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধির মধ্যেও গণপরিবহন চালু আছে, লঞ্চ চলছে, নির্বাচন চলছে, বাণিজ্য মেলাসহ সবকিছু চলছে, তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আর পরীক্ষা বন্ধ কেন? এটি করোনার দোহাই দিয়ে শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করা।’ মানববন্ধন কর্মসূচির আহ্বায়ক ও মাদারীপুর সরকারি কলেজের দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী হৃদয় মুনশি বলেন, পরীক্ষা চালুসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালুর দাবিতে আজ সারা দেশে শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করছেন। সরকার যদি তাঁদের ডাকে সাড়া না দেয়, তাহলে ভবিষ্যতে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।