শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে কোনো ধরনের রাজনীতি নেই। তাঁরা যৌক্তিক দাবিতে আন্দোলন করছেন। আজ মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করতে এসে এ কথা বলেন সাংসদ ও গণফোরামের নির্বাহী সদস্য মোকাব্বির খান। এর আগে বেলা পৌনে একটার দিকে সাংসদ মোকাব্বির খান উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অনশনরত শিক্ষার্থীদের দেখতে আসেন। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের বলেন, ‘আমি রাজনীতিবিদ হিসেবে নয়, একজন সাংসদ ও সাধারণ মানুষ হিসেবে শিক্ষার্থীদের কষ্টের সঙ্গে সহমর্মিতা জানাতে এসেছি।’ মোকাব্বির খান বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের বক্তব্য অনুযায়ী তাঁদের দাবি অত্যন্ত যৌক্তিক। সরকারপ্রধানের কাছে আমাদের আহ্বান থাকবে সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধান করুন।’ মোকাব্বির খান আরও বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের ব্যাপারে সরকারকে ভুল তথ্য দেওয়া হচ্ছে। আমি এসে দেখলাম, এটি সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলন। তাঁরা চান না তাঁদের এ আন্দোলন কোনোভাবেই রাজনৈতিকভাবে ব্যবহৃত হোক।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলার পর সাংসদ মোকাব্বির খান গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেনের মুঠোফোনে ফোন করে তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি সম্পর্কে জানান। প্রাক্তন পাঁচ শিক্ষার্থীকে আটক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন পাঁচ শিক্ষার্থীকে আটক করেছে গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পুলিশ। এ বিষয়ে সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার নিশারুল আরিফ বলেন, তাঁদেরকে ঢাকা থেকে সিলেটে নিয়ে আসা হচ্ছে। তাঁদের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ রয়েছে, সেটি তাঁদের হস্তান্তরের পর জানা যাবে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সূত্রপাত ১৩ জানুয়ারি। ওই দিন রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের প্রাধ্যক্ষ জাফরিন আহমেদের বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ তুলে তাঁর পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন হলের কয়েক শ ছাত্রী। ১৫ জানুয়ারি সন্ধ্যায় আন্দোলন চলাকালে ছাত্রীদের ওপর হামলা চালায় ছাত্রলীগ। ১৬ জানুয়ারি শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি ভবনে উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করেন। তখন পুলিশ শিক্ষার্থীদের লাঠিপেটা করে এবং তাঁদের লক্ষ্য করে রাবার বুলেট ও সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ে। ওই দিন রাতে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষ। শিক্ষার্থীরা তা উপেক্ষা করে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।