তালেবানদের হাতে দেশের নিয়ন্ত্রণ চলে যাওয়ার পরে সব ক্ষেত্রেই ক্রমাগত অবনতি দেখছে আফগানিস্তান। ভেঙে পড়েছে দেশের সব ধরনের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা। বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে অর্থনৈতিক অবস্থাও। এমন অর্থনৈতিক পরিস্থিতি চলমান থাকলে ২০২২ সালের শেষ নাগাদ আফগানিস্তানের ৯০ শতাংশ স্বাস্থ্যকেন্দ্র বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি (আইআরসি) সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়া। আইআরসি বলছে, এতে লাখ লাখ আফগান স্বাস্থ্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে এবং বর্তমান অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি চলমান থাকলে অনেকে প্রতিরোধযোগ্য রোগে প্রাণও হারাবে। আফগান জনগণের অন্ধকার ভবিষ্যতের আশঙ্কা করে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের শেষ নাগাদ ৯৭ শতাংশ মানুষ ক্ষুধার্ত থাকবে। মানবিক সংকটের ঝুঁকি আরো তীব্রতর হবে। যেহেতু কেন্দ্রীয় ব্যাংকে থাকা আফগানিস্তানের অর্থ ফ্রিজ করা হয়েছে এবং সব ধরনের বৈশ্বিক সহায়তা স্থগিত করা হয়েছে, তাই নতুন এ আঘাত যে তারা সামলে উঠতে পারবে তেমন কোনো প্রত্যাশা করছেন না অনেকে। পরিস্থিতি খারাপ হচ্ছে বিবেচনা করে আইআরসি বিশ্বসম্প্রদায়কে আহ্বান জানিয়েছে সামনে এগিয়ে আসার এবং সহায়তা করে আফগানিস্তানের স্বাস্থ্য খাতকে সহায়তা করার। সম্প্রতি বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) জানিয়েছে, কর্মীদের ছাঁটাই করার কারণে বর্তমানে তীব্র দারিদ্র্যের মুখোমুখি হচ্ছে আফগানিস্তান। ২ কোটি ৩০ লাখ আফগান জনগণকে খাদ্য সরবরাহ করতে সংস্থাটির ২৬০ কোটি আফগান রুপির বেশি অর্থ দরকার বলেও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।