বিমানবন্দর হয়ে বিদেশফেরত প্রতিযাত্রীর জন্য শুল্কমুক্তভাবে ১০০ গ্রাম ওজনের স্বর্ণালঙ্কার ও শুল্ক প্রদান করে দু'টি স্বর্ণবার বহনের নিয়ম থাকার সুযোগে দেশে সহজেই ঢুকছে স্বর্ণবার। এ নিয়মের কারণে অবৈধ পথে স্বর্ণচালান কমার আশা করা হলেও হয়েছে উল্টো। এটাকেই স্বর্ণ চোরাচালানের পথ হিসেবে বেছে নিয়েছে একটি বিশেষ চক্র। দুবাই-চট্টগ্রাম ও দুবাই-ঢাকা রুট ব্যবহার করছে তারা। এ কাজে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে সাধারণ যাত্রীদের। 'লাগেজ বাণিজ্য'র মাধ্যমে দেশে স্বর্ণবার পৌঁছে দিলে যাত্রীরা পাচ্ছে নগদ অর্থ বা বিনামূল্যে বিমান ভ্রমণের সুযোগ। অভিযোগ আছে, প্রায় প্রতি ফ্লাইটে চলে এই কায়দার লেনদেন। দেশের বিমানবন্দর পার হওয়া স্বর্ণবার চক্রাকারে পৌঁছায় ভারতে। বিশেষ এই চক্রের 'লাগেজ বাণিজ্যে'কেই বিমান টিকিটের দুষ্প্রাপ্যতা ও টিকিটের মূল্য বৃদ্ধির জন্য দায়ী করছে প্রবাসীরা। আবুধাবির একজন ট্রাভেলস ব্যবসায়ী অভিযোগ করে বলেন, অধিকাংশ ফ্লাইটে 'লাগেজ বাণিজ্য' হচ্ছে। যাত্রীদের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে স্বর্ণবার, স্বর্ণালঙ্কার পাঠাচ্ছে একটি চক্র। তারা (বিশেষ চক্র) নিজেরাই প্রতিমাসে দু-একবার ভ্রমণ করছে। আবার কোনো প্রবাসী দেশে ফেরার খবর পেলে তার সঙ্গে চুক্তি করছে। জানা গেছে, সাধারণ যাত্রীরা ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকার বিনিময়ে বা বিনামূল্যে বিমান ভ্রমণের সুযোগ কাজে লাগাতে স্বর্ণবার, স্বর্ণালঙ্কার, ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন ও সিগারেটের ব্যাগেজ বহনে রাজি হন। কেউ কেউ ব্যাগেজে থাকা মালামাল সম্পর্কে অবগত থাকলেও অধিকাংশ যাত্রীই না জেনেই পার করেন এগুলো। বিমানবন্দর পার হলেই সেগুলো চলে যায় ওই চক্রের কোনো সদস্যের হাতে। দুবাইয়ের দেরা বাজারের এক ব্যবসায়ী জানান, প্রতিদিন যে পরিমাণ স্বর্ণবার বিমানবন্দর হয়ে বাংলাদেশে ঢুকছে সে পরিমাণ স্বর্ণের চাহিদা নেই। এগুলো একাধিক হাত ঘুরে চক্রাকারে ভারতে পাচার হয়। সেখানে তৈরি স্বর্ণালঙ্কারে রূপান্তর হবার পর আবারও বিশেষ কায়দায় দুবাইয়ে ফিরে আসে। সরকার ঘোষিত সহজ প্রক্রিয়ার সুযোগটি কিছু ব্যবসায়ী নিলেও এর পেছনে রয়েছে অন্য একটি বড় চক্র। তার মতে, এই কাজে নিয়োজিত সাধারণ ব্যবসায়ীরা ৫০ হাজার দিরহাম বিনিয়োগের বিপরতীতে ৫০ হাজার টাকা আয় করছে। কিন্তু বড় চক্রগুলোর লেনদেনের হিসাবও বড় অংকের। এদিকে, করোনার প্রাদুর্ভাবে বন্ধ থাকা আকাশ পথের যোগাযোগ চালু শুরু হলে 'দুই সিটে এক যাত্রী' শর্তে প্রায় প্রতিটি উড়োজাহাজ সংস্থা টিকিটের মূল্য বৃদ্ধি করে। কিন্তু বর্তমানে প্রতি সিটে যাত্রী ধারণ করলেও সব ফ্লাইটে আশানুরূপ হ্রাস করা হয়নি টিকিট মূল্য। বরং আগের দুই টিকিট সমপরিমাণ অর্থেও মিলছে না দুবাই-ঢাকা বা দুবাই-চট্টগ্রামের বিমান টিকিট। আকাশচুম্বী দামের জন্য অধিকাংশ ট্রাভেলস কোম্পানি 'ভিজিট ভিসার যাত্রী' ও 'লাগেজ বাণিজ্য'কে দায়ী করছে।