ব্র্যাক ব্যাংক-প্রথম আলো ট্রাস্ট অদম্য মেধাবী সুজন কুমার ভাদুড়ী বর্তমানে ‘মাস্টার্স প্রোগ্রাম ইন প্ল্যান্ট ব্রিডিং’–এ ফিনল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব হেলসিংকিতে পড়াশোনা করছেন। এর আগে ২০২০ সালে তিনি তাঁর মাস্টার্সের প্রথম অংশ শেষ করেন ফ্রান্সের ইউনিলাসাল বিশ্ববিদ্যালয়ে। সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার হাটপাঙ্গাসী গ্রামের ছেলে সুজন কুমার ভাদুড়ী। অদম্য মেধাবীদের মধ্যে সুজনই প্রথম, যিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের মর্যাদাপূর্ণ ‘ইরাসমাস মুন্ডুস’ বৃত্তি নিয়ে দেশের বাইরে পড়তে গেলেন। এই সুজন যখন ২০১১ সালে এসএসসিতে জিপিএ–৫ পেলেন, তখনো তাঁর বাবা বাবুল ভাদুড়ী ভাবতে পারেননি তাঁর ছেলের জন্য সামনে উজ্জ্বল দিন অপেক্ষা করছে। প্রতিদিনের টানাটানির সংসারে এই বাবা কেবল জানতেন বেঁচে থাকাটাই জীবন। এসএসসিতে এত ভালো ফল করেও সুজন ও তাঁর পরিবার জানতেন না কীভাবে উচ্চমাধ্যমিকে পড়াশোনা চালিয়ে যাবেন। এই সময়ে স্থানীয় একজন শিক্ষক প্রথম আলোর প্রতিনিধিকে জানান সুজনের বিষয়টি। প্রতিবেদন হয় সুজনকে নিয়ে, সুজনের সংগ্রাম নিয়ে। অবশেষে ব্র্যাক ব্যাংক-প্রথম আলো ট্রাস্ট অদম্য মেধাবী শিক্ষাবৃত্তি নিয়ে উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করেন তিনি। ভর্তি হলেন হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি বিভাগে। স্নাতক শেষ করে সুজন জেনেটিকস অ্যান্ড প্ল্যান্ট ব্রিডিং ডিপার্টমেন্টে স্নাতকোত্তরে (মাস্টার্স) ভর্তি হন। সাধারণত পড়াশোনা শেষ করে সবাই চাকরির খোঁজ করেন, কিন্তু সুজন হন্যে একটা ভালো বৃত্তির খোঁজ করেছেন। করোনার কারণে বাড়িতে থাকতে থাকতে যখন হতাশা প্রায় গ্রাস করে নিচ্ছিল, ঠিক তখনই পেলেন জীবনের অন্যতম সেরা সুখবর—তিনি ইরাসমাস মুন্ডুস বৃত্তি পেতে যাচ্ছেন। সুজনের কাছে যখন জানতে চাওয়া হলো কী করলে এমন দৃঢ় মনোবল নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া যায়, সুজন তখন জানান, ‘প্রথমেই স্বপ্ন দেখতে জানতে হবে। স্নাতকে ভর্তি হওয়ার পর থেকে শিক্ষাবৃত্তিসংক্রান্ত বিষয়ে ঘাঁটাঘাঁটি শুরু করে দিতে হবে, বিভিন্ন ইউনিভার্সিটির ওয়েবসাইট, ইউটিউব, এমনকি ফেসবুক থেকেও ইদানীং ভালো ধারণা পাওয়া যায়। সিজিপিএ ভালো থাকার পাশাপাশি ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ টেস্টেও ভালো করতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘জীবনে চলার পথে নানা রকম বাধাবিপত্তি আসে। এ ক্ষেত্রে আমি বলব, সমস্যাকে বড় করে না দেখে, স্বপ্নকে বড় করে দেখতে হবে। এখন যাঁরা অদম্য মেধাবীরা আছেন, তাঁরা তাঁদের বড়দের কাছ থেকে যেকোনো সময়ে যেকোনো পরামর্শ নিতে পারেন। আর যাঁরা দেশের বাইরে পড়তে চান, তাঁরা যেকোনো সময়ে আমার কাছে সহায়তা চাইলে আমি আমার অভিজ্ঞতা থেকে তাঁদের সহায়তা করার চেষ্টা করি। আমার দরজা আমার ছোটদের জন্য সব সময় খোলা।’ মাস্টার ডিগ্রি শেষ করার পর সুজন উচ্চতর গবেষণার জন্য চেষ্টা করবেন। দেশে গবেষণার জন্য ভালো সুযোগ পেলে দেশে এসে, দেশের জন্য কাজ করতে চান সুজন। জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের পাশে থাকতে চান সুজন, যেমন ব্র্যাক ব্যাংক-প্রথম আলো ট্রাস্ট তাঁর পাশে ছিলেন।