আফগানিস্তানের শাসকগোষ্ঠী তালেবানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যুদ্ধাবস্থা থেকে বেরিয়ে একটি শান্তিপূর্ণ অবস্থায় ফিরতে চায় তারা। এ ছাড়া পশ্চিমা দেশগুলোর পক্ষ থেকে যেসব দাবি জানানো হয়েছে, সেগুলো পূরণে কাজ করছে তালেবান সরকার। নরওয়ের অসলোয় পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শুরুর আগে তালেবানের পক্ষ থেকে এ কথা বলা হলো। আগামীকাল রোববার এই আলোচনা শুরু হচ্ছে। চলবে মঙ্গলবার পর্যন্ত। মানবাধিকার, ত্রাণ ইস্যুতে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, যুক্তরাষ্ট্র ও নরওয়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে তালেবানের প্রতিনিধিদের বৈঠক হবে। তালেবানের যে প্রতিনিধিদল নরওয়েতে যাচ্ছে, তাদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মোত্তাকি। আজ শনিবার তাঁর অসলো যাওয়ার কথা। যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা আসার পর গত ১৫ আগস্ট আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেয় তালেবান। এর পর থেকে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে তালেবানের কোনো আলোচনা হয়নি। তালেবান ক্ষমতা দখল করায় বিভিন্ন দেশ মানবিক সাহায্য দেওয়া বন্ধ করেছে। এ ছাড়া ৯ হাজার ৫০০ কোটি মার্কিন ডলারের আফগান রিজার্ভ জব্দ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে দেশটিতে মানবিক সংকট আরও তীব্র হয়েছে। এ ছাড়া কোনো দেশ এখনো স্বীকৃতি দেয়নি তালেবান সরকারকে। এই পরিস্থিতিতে তালেবানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বিদেশের মাটিতে এই প্রথম পশ্চিমাদের কোনো বৈঠক হচ্ছে। এর আগে বার্তা সংস্থা এএফপির সঙ্গে কথা বলেছেন তালেবানের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ। আর শনিবার তিনি বলেন, ‘পশ্চিমা দেশগুলোর পক্ষ থেকে যেসব দাবি জানানো হয়েছে, সেগুলো পূরণে কাজ করছে তালেবান সরকার। আমরা আশা করছি, কূটনীতির মধ্য দিয়ে ইউরোপ, পশ্চিমা দেশসহ সব দেশের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক হবে।’ তালেবান সরকারকে এখনো কোনো দেশ স্বীকৃতি দেয়নি। এ প্রসঙ্গে নরওয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যানিকেন হুইটফেল্ড বলেন, এই বৈঠকের অর্থ এই নয় যে তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি বা বৈধতা দেওয়া হচ্ছে। তালেবানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আফগানিস্তানের নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদেরও বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে অসলোয়। এই নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের মধ্যে নারী ও সাংবাদিকও রয়েছেন।