আফগানিস্তানের কাবুল বিমানবন্দরে দুই মাস বয়সে হারিয়ে যাওয়া ছোট্ট শিশু সোহেল আহমাদিকে খুঁজে পাওয়া গেছে। হামিদ সাফি নামক এক ট্যাক্সি ড্রাইভার বিমানবন্দরে তাকে খুঁজে পেয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। গতকাল শনিবার সোহেলকে তার স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। খবর রয়টার্স। খবরে বলা হয়, হামিদ সাফি নামে ওই ট্যাক্সি চালক সোহেল আহমাদিকে নিজের মতো করে বড় করতে বাড়ি নিয়ে গিয়েছিলেন। সাত সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে আলোচনা ও আবেদন করার পরিপ্রেক্ষিতে তাকে আটক করে তালেবান পুলিশ। পরে তিনি সোহেলকে তার দাদা ও আত্মীয়দের কাছে ফিরিয়ে দিতে রাজি হন। সোহেলের বাবার নাম মির্জা আলি আহমাদি। তিনি তার স্ত্রী ও বাকি সন্তানদের নিয়ে শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। শিশুটিতে তাদের কাছে ফিরিয়ে দিতে উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। সোহেলকে কীভাবে পেলেন সাফি রয়টার্সকে ট্যাক্সি চালক সাফি জানান, গত বছর ১৯ আগস্ট তালেবান রাজধানী কাবুল দখল করলে প্রাণ ভয়ে দেশ ছাড়তে শুরু করেন আফগানরা। সেদিন তিনি তার ভাইয়ের পরিবারকে কাবুল বিমানবন্দরে পৌঁছে দেন। বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার সময় তিনি সোহেলকে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেন। এ সময় শিশুটি কাঁদছিল। সোহেলের বাবা-মাকে খোঁজার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন তিনি। সাফি ও তার স্ত্রীর তিন মেয়ে। তিনি চেয়েছিলেন তাদের একটি ছেলে হোক। তাই দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর সোহেলকে নিজের বাড়ি নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। বিমানবন্দর থেকে শিশুটিকে নিয়ে সোজা চিকিৎসকের কাছে যান সাফি। সেখান থেকে তাকে বাড়ি ফেরার পর মোহাম্মদ আবেদ নামকরণ করেন। ফেসবুকেও তাকে নিয়ে ছবি পোস্ট করেন। ফেসবুকে ছবি দেখার পর সোহেলের পরিবার তাকে চিনতে পারে। অনেকেই সাফির পোস্টের নিতে তার পরিবারের পরিচয় নিয়ে মন্তব্য করেন। মির্জা আলি আহমাদির শ্বশুর মোহাম্মদ কাসেম রাজাউই বর্তমানে আফগানিস্তানে বসবাস করছেন। তিনি তার নাতির ছবি দেখে সাফির সঙ্গে যোগযোগ করেন। সোহেলকে ফিরিয়ে দিতেও অনুরোধ করেন। সোহেলের পরিচয় শনাক্তের পর রাজাউই তার নাতিকে ফিরে পেতে এক লাখ আফগানি মুদ্রা দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সাফি অস্বীকৃতি জানান। স্থানীয় থানার কর্মকর্তা হামিদ মালং বলেন, সোহেলের দাদা রাজাউই আমাদের কাছে অভিযোগ করেন। পরে আমরা শিশুটিকে খুঁজে পাই। আমাদের কাছে প্রমাণ ছিল। সাফিকে আটকের পর সোহেলকে ফিরিয়ে দিতে তিনি রাজি হন। পরে উভয় পক্ষ এক চুক্তিতে মত দিলে সোহেলকে তার দাদার কাছে ফিরিয়ে দেয়ার কার্যক্রম শুরু হয়। সোহলেকে স্বজনরা বাড়িতে নিয়ে আসার পর তার বাবা-মায়ের সঙ্গে ভিডিও কলের মাধ্যমে দেখা করিয়ে দেয়া হয়। মির্জা আলি ও তার স্ত্রী এ সময় আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন। সোহেলকে জীবিত অবস্থায় বাড়ি নিয়ে যাওয়া ও তার দেখাশোনার জন্য সাফিকে ধন্যবাদও দেন। যেভাবে হারিয়েছিল সোহেল ২০২১ সালের ১৯ আগস্ট তালেবানদের ধাওয়া খেয়ে কাবুল বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান মির্জা আলী তার স্ত্রী ও পাঁচ সন্তান। সোহেলের বয়স তখন মাত্র দুমাস। তখন মার্কিন বাহিনীর উদ্ধারকাজ চলছিল। ভিড় এত বেশি ছিল, সোহেলকে কোলে রাখাই কষ্টকর হয়ে পড়েছিল মির্জার কাছে। হঠাৎ তারা এক মার্কিন সেনার কণ্ঠ শুনতে পান, যিনি সাহায্য করতে চাইছিলেন। মির্জা তার কোলের সন্তানকে ওই সেনার হাতে তুলে দিনে। যে ছবি বিশ্ব মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছিল। মির্জা আলি ভেবেছিলেন তারা কিছুক্ষণের মধ্যেই বিমানবন্দরের ভিতরে ঢুকে যাবেন। কিন্তু এর মধ্যেই তালেবানরা এসে পড়ে। কোনো মতে তারা বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে ঢুকলেও সোহেলকে হারিয়ে ফেলেন। পরে বাধ্য হয়েই যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান তারা। তখন থেকে বিভিন্ন উপায়ে শিশুটির সন্ধান চলে। ঘটনাটি আন্তর্জাতিক মহলেও বেশ আলোচিত হয়।