প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বৈঠকে সময়ের প্রয়োজন অনুযায়ী সহযোগিতার সম্পর্ক বিস্তৃত করার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে আগামী দিনে কানেক্টিভিটি ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রের পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি খাতে যৌথ সহযোগিতা বিস্তৃত করার বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে আলোচনা হয়েছে। এটি ছিল বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক একটি স্তর থেকে নতুন আরেকটি স্তরে উন্নীত করার বৈঠ এভাবে আশ্বাসের পর আশ্বাস দিয়ে মোদির সফর সমাপ্ত হয়। হয়নি তিস্তা চুক্তি। সীমান্ত হত্যা বন্ধের কোন চক্তি। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি দ্রুত সম্পন্ন করা এবং সীমান্ত হত্যা বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। গুরত্ব আর প্রতিশ্রুতির দেয়ালে বন্ধি ছিল সফর। যেভাবে মোদি বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে প্রতিবেশীদের মধ্যে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি আবারও জোর দিয়েছেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, বাংলাদেশের যত কভিড-১৯ ভ্যাকসিন প্রয়োজন, ভারত তা দেবে। দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক শেষে পৃথক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন এবং ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলা। বৈঠকে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পাঁচটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। এ ছাড়া আটটি নতুন প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানিয়েছেন, তিস্তা চুক্তি দ্রুত স্বাক্ষরে ভারত অঙ্গীকারবদ্ধ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সীমান্ত হত্যার বিষয়টিও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তুলে ধরেন এবং সীমান্ত হত্যা সমস্যার সমাধানে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন। এর জবাবে নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, সীমান্তে হাট তৈরি করা গেলে এ সমস্যার অনেকখানি সমাধান হবে। শ্রিংলার ব্রিফিং: ভারতের পররাষ্ট্র সচিব সাংবাদিকদের জানান, বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর এই ঐতিহাসিক সময়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফর দু'দেশের মধ্যে গভীর বন্ধুত্ব ও আস্থার সম্পর্কের প্রতিফলন। এর মধ্য দিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক আরও উচ্চতায় পৌঁছেছে। দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে অনুষ্ঠিত শীর্ষ বৈঠকের আলোচনাতেও আগামী দিনে সহযোগিতার সম্পর্ক বিস্তৃত করার বিষয়টি প্রাধান্য পেয়েছে। আগামীতে অর্থনৈতিক ও কানেক্টিভিটির ক্ষেত্রে যৌথ সহযোগিতা বৃদ্ধির পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বিগ ডাটাসহ তথ্যপ্রযুক্তি খাতে যৌথ সহযোগিতা বিস্তৃত করার বিষয়ে বিশেষভাবে আলোচনা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে এই বৈঠক বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক একটি স্তর থেকে নতুন একটি স্তরে উন্নীত করবে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, তিস্তার পানি বণ্টনসহ অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। ভারত যৌথ নদীর পানির অংশীদারিত্ব নিয়ে সহযোগিতা জোরদার করতে চায়- ভারতের প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এ কথা জানিয়েছেন। তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত আলোচনা ও তথ্য আদান-প্রদান চলছে বলেও জানান ভারতের পররাষ্ট্র সচিব। এ প্রসঙ্গে তিনি কিছুদিন আগে দিল্লিতে পানিসম্পদ সচিব পর্যায়ে বৈঠকের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন। কানেক্টিভিটি বিষয়ে আলোচনার ব্যাপারে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব জানান, দুই দেশের মধ্যে সড়ক, রেল, নৌ যোগাযোগ বৃদ্ধিসহ যোগাযোগ সুবিধা আরও বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি সার্ক, বিমসটেক ও বিবিআইএন জোটভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে আন্তঃসড়ক যোগাযোগ স্থাপনে যৌথভাবে কাজ করতেও একমত হয়েছেন দুই প্রধানমন্ত্রী। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির বিষয় নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। ভারত বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্যই সবচেয়ে বেশি ভিসা ইস্যু করে। কভিড-১৯ এর মধ্যেও মেডিকেল ও বিজনেস ভিসা স্বাভাবিক নিয়মেই দেওয়া হচ্ছে। কভিড-১৯ মহামারি পরিস্থিতির অবসান হলে ভ্রমণ ভিসাও চালু হবে। তিনি জানান, ভারতে বাংলাদেশি নাগরিকদের চিকিৎসা সুবিধা আরও কীভাবে বাড়ানো যায়, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। ভারত এ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়েই চিন্তাভাবনা করছে। রোহিঙ্গা সংকট বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে মানবিক আশ্রয় দেওয়ার বিষয়টিকে ভারত সব সময় শ্রদ্ধার দৃষ্টিতে দেখে। রোহিঙ্গা সংকট ইস্যু গুরুত্ব দিয়ে আলোচিত হয়েছে। বিশেষ করে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় ভারত বাংলাদেশকে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে এবং রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের জন্যও ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করবে। মোদির ঢাকা ত্যাগ: ভারতের প্রধানমন্ত্রী গত রাতে দিল্লির উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে বিদায় জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।