সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর কাজের মূল্যায়নের জন্য বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদন (এসিআর) বহুল আলোচিত। দীর্ঘ ত্রিশ বছর আগের এসিআর ফরম সম্প্রতি পরিবর্তন করেছে সরকার। এতেও ১০০ নম্বরের মধ্যে মানদণ্ডভিত্তিক নম্বর বিভাজন রাখা হয়েছে। ফলে কোনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ইচ্ছা করলেই শোকজসহ বিভিন্নভাবে অধস্তন কর্মকর্তাদের হয়রানি করতে পারেন। এবার পুরো পদ্ধতিটিই পরিবর্তন করতে যাচ্ছে সরকার। আমলাদের কাজের আরও সঠিক মূল্যায়নের লক্ষ্যে 'অনলাইন পদ্ধতি' চালু করা হচ্ছে। এই পদ্ধতি তৈরির জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিপি (ক্যারিয়ার প্ল্যানিং ও প্রশিক্ষণ) অধিশাখার যুগ্ম সচিবকে প্রধান করে ছয় সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কীভাবে এটি বাস্তবায়ন করা হবে সেই পরিকল্পনাও চূড়ান্ত করেছেন কমিটির সদস্যরা। এখন কারিগরি দিক ও সম্ভাব্য বাজেট তৈরির কাজ চলছে। এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এ বিষয়ে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছেন। এটি কার্যকর হলে একজন কর্মকর্তা নিজের কর্মকৃতি (পারফরম্যান্স) নিজেই মূল্যায়ন করতে পারবেন। এ ছাড়া কর্মকর্তাদের পাঁচটি ব্যক্তিগত ও পাঁচটি পেশাগত বৈশিষ্ট্যের মূল্যায়ন করা হবে নতুন পদ্ধতিতে। এর মধ্যে সেবাগ্রহীতা ও সহকর্মীদের সঙ্গে ব্যবহার, শুদ্ধাচার, উদ্ভাবন মনস্কতা, যোগাযোগের দক্ষতা, নেতৃত্ব ও তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারের দক্ষতাসহ বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তারা এসব তথ্য জানিয়েছেন।