অর্থ ও মানবপাচারের মামলায় বাংলাদেশের সংসদ সদস্য কাজী শহিদ ইসলাম পাপুলের কুয়েতে কারাদণ্ডের ঘটনাকে সরকারের দুর্নীতির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। শুক্রবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, কুয়েতের আদালতে বর্তমান সংসদের একজনের সাজা হওয়ার ঘটনায় বর্তমান সরকারের দুর্নীতির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে। একবার পেয়েছিল পদ্মা সেতু নিয়ে, এইবার অর্থ ও মানবপাচারে পেল। এটাতে সরকারের টনক না লড়লেও দেশের জন্য লজ্জার। বর্তমান নিশিরাতের ভোটের সরকার এর দায় এড়াতে পারে না। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া পাপুলের মতো এমপিরা বেপরোয়া দুর্নীতি করার সাহস পেত না। তার কোনো পলিটিক্যাল ব্যাকগ্রাউন্ড নাই। প্রচুর টাকার কারণে তাকে এমপি করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, তার স্ত্রীকেও এমপি করা হয়েছে। এভাবে রাজনীতিকীকরণ চলছে। আওয়ামী লীগ রাজনীতিকে একটা নষ্ট জায়গায় নিয়ে গেছে। তারা দুর্বৃত্তায়নের চরম পর্যায় নিয়ে গেছে রাজনীতিকে। বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার টিআইবির রিপোর্ট দিয়েছে, দুর্নীতির ধারণা সূচকে আগের তুলনায় আরও দুই ধাপ নিচে নেমে গেছে বাংলাদেশ। এর পেছনে করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যেও দেশের স্বাস্থ্য খাতে ব্যাপক দুর্নীতির বিষয়টাকে অন্যতম কারণ হিসেবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, যেটা বিএনপি আগেও বলেছে বারবার। চসিক নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী রেজাউল করীমের জয়ের প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট হলেও নির্বাচন শেষ হওয়ায় ১০ ঘণ্টা পরে রাত পৌনে ২টায় রিটার্নিং কর্মকর্তা গণভবন থেকে নিশিরাতের সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাঠানো ফলাফল ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, অথচ ইভিএমে ফলাফল দিতে সর্বোচ্চ এক-দুই ঘণ্টার বেশি লাগার কথা নয়। ডাকাতির পর ভাগ-বাঁটোয়ারা নিয়ে হিসাব মেলাতেই এত দীর্ঘ সময় লেগেছে। বহু হিসাব-নিকাশ করে তারা দেখিয়েছে, নির্বাচনে ২২ শতাংশ ভোট পড়েছে। সংবাদ সম্মেলনে দলের প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুল ইসলাম হাবিব, সহ-ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক খায়রুল ইসলামসহ সাতক্ষীরা, কিশোরগঞ্জ ও ভোলায় বিভিন্ন ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত নেতা-কর্মীদের মুক্তির দাবি জানান রিজভী। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য অধ্যাপিকা সাহিদা রফিক, আবুল খায়ের ভুঁইয়া, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুস সালাম আজাদ, আসাদুল করীম শাহিন, আবদুল খালেক, একরামুল হক বিপ্লব, ওমর ফারুক সাফিন, আক্তারুজ্জামান বাচ্চু প্রমুখ।